ঢাকা কমা’র্স কলেজের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীসহ ছাত্রীদেরকে যৌ’ন হয়রানির অভিযোগ

ঢাকা কমা'র্স কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান মিঞার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীসহ কলেজ ছাত্রীদেরকে যৌ'ন হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে। অন্য বিভাগের সহকর্মীরাও তার এমন আচরণে বির'ক্ত। শুধু ছাত্রীই নয় তার যৌ'ন নি'পী'ড়নের শিকার হয়েছেন নারী শিক্ষকও।

ছাত্রীদেরকে মা ডেকে নিজেকে বাবার আসনে বসিয়ে সেই ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে যৌ'ন হয়রানি করেন তিনি। কলেজে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা বলে ম্যানেজ করে আবার কাউকে মিথ্যা প্র'লোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতেন তিনি। ভুক্তভোগী নারীরা কলেজের যৌ'ন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি ও মহিলা পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে এ অভিযোগ ত'দন্ত না করে গভর্নিং বডি উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অনৈ'তিক সম্পর্কের অভিযোগ উত্থাপন করে সেটির ত'দন্ত করছে।

ঢাকা কমা'র্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এরিন সুলতানা ২৯ জুলাই কলেজের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. সাইদুর রহমান মিঞার বিরুদ্ধে যৌ'ন হয়রানির অভিযোগ করে।

এরিন সুলতানা বলেন, জুলাই মাসের ২৯ তারিখ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ৬০ দিনের মধ্যে কথা থাকলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, প্রফেসর মো. সাইদুর রহমান অ'শালীন আচরণ, বিভিন্নভাবে হয়রানিসহ মোবাইল ফোনে ব্যক্তিগত বি'ষয়ে আলাপ করার প্রস্তাব দেয়। তার কথামতো না চললে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে টিউটোরিয়াল ক্লাস থেকে বাদ দেয়া, শোকজ প্রদান, চাকরি স্থায়ী না করার হুমকি দিয়ে থাকে। এ বি'ষয়ে মুক্তি রায় ও তাহমিনা তাহরকে বলেও কোন কাজ হয়নি। তার এই অনৈ'তিক আচরণের শিকার নারী সহকর্মীসহ ছাত্রীরাও।

তিনি আরো বলেন, আমি ছাড়া আরও এক নারী শিক্ষক এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌ'ন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেছেন।আমাদের যৌ'ন হয়রানির অভিযোগ ত'দন্ত না করে কলেজ কর্তৃপক্ষ উল্টো আমাদের সঙ্গে অন্য দুজন পুরুষ সহকর্মীর নাম জড়িয়ে কুৎসা রটিয়েছে।আমাদের ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জার এডিট করে পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন কথোপকথন ফেসবুকে ভাইরাল করেছে।

ভুক্তভোগী প্রভাষক বলেন, আমরা উপায় না পেয়ে মহিলা পরিষদে অভিযোগ দিয়েছি। কলেজে দুটি গ্রুপ আছে তারা খুব শক্তিশালী। তারা আমাদের অভিযোগের ত'দন্ত এখনও শুরু করেনি। কিন্তু যৌ'ন হয়রানির বিচার পাবো কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত।

ভুক্তভোগী অপর শিক্ষিকা বলেন, আমি গত জুনে অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখনও কোনও ত'দন্ত হয়নি। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে অনৈ'তিক সম্পর্কের ত'দন্ত করা হচ্ছে। এ বি'ষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও বি'ষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। এরপর গত আগস্টে মহিলা পরিষদের কাছে অভিযোগ করেন একজন নারী প্রভাষক।

নারী শিক্ষক তার অভিযোগে বলেন, বিভিন্ন সময় হয়রানি করেছেন সাইদুর রহমান। এদিকে সাইদুর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উল্টো অভিযোগ করেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. সাইদুর রহমান মিয়া বলেন, দুই নারীই তার কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। একজনের বিবাহবহির্ভূ'ত সম্পর্ক ছিল। অন্যজন তাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতেন। এরিন সুলতানার কিছু ছবি ভাইরাল হয়। এরপর এ বি'ষয়ে সাহায্য পেতে আমা'র বাসায় এসেছিলো তাকে সাহায্য না করায় আমা'র বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আ ফ ম শফিকুর রহমান বলেন, যৌ'ন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি এ বি'ষয়ে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত চারটি মিটিং করেছেন। ত'দন্তের পর বলা যাবে কে অপ'রাধী।

প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে যৌ'ন নি'পী'ড়নের অভিযোগে রাজধানীর কমা'র্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান সাইদুর রহমানের বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিরপুরে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনেই প্রতিবাদ সমাবেশে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

এদিকে ঢাকা কমা'র্স কলেজের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা তাদের ফেইসবুক কমেন্টসে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে এক শিক্ষার্থী লিখেন: স্যার কলেজে থাকাকালীন ক্লাসে ছাত্রীদের সাথে অসংগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর অনেক ঠাট্টা করতেন। স্যার অনেক আগে থেকেই বিতর্কিত। এটা নতুন কিছু নয়, প্রকাশ মাত্র।

কমা'র্স কলেজের অন্য এক শিক্ষার্থী লিখেন: এই ভ্রদলোক আমা'র শিক্ষক ছিলেন। আমরা তার হোস্টেলে থাকতাম একটি পুর বাড়ী ভাড়া নিয়ে হোস্টেল বানিয়েছেন। হোস্টেল এর একদম উপরে একটি কক্ষ ছিল সেটি ছিলো তার ব্যাক্তিগত কক্ষ সে কক্ষে সে অবাধে নারী নিয়ে আসতো এবং ম'দের আসর বসাতো। অবাক করা ব্যপার হলো তার মধ্যে কোন চক্ষু লজ্জা ছিল না। সব স্টুডেন্টের সামনে দিয়ে সে নারী নিয়ে ঐ রুমে আসা যাওয়া করত এবং মধ্য রাত এবং সারা রাত ফুর্তি করত এসব কিছুর সাক্ষী তার “মধ্য ফাল্গুনী” হোস্টেলের শত শত ছাত্রী আমরা যখন কলেজে পড়তাম তখন ফেইসবুক এত বড় প্লাটফর্ম ছিল না। তাই আজকের মত তার কু-কর্মগুলো সামনে আসে নাই। দেরীতে হলেও একজন শিক্ষক রূপী পার্ভার্টের কুকর্ম ফাঁ'স করার জন্য ধন্যবাদ।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে হাইকোর্ট দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌ'ন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।কিন্তু কমা'র্স কলেজে এই কমিটি ছিল না।দুই নারী শিক্ষিকা অভিযোগ দেওয়ার পর যৌ'ন হয়রানির প্রতিরোধ কমিটি করা হয়। সাধারণ অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা জানায় অবিলম্বে সাঈদুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হোক ও কলেজ থেকে বহিস্কার করা হোক।