Wednesday , June 26 2019

আল্টিমেটাম থেকে সরে ঐক্যফ্রন্টকে আরও সময় দিলেন কাদের সিদ্দিকি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ীদের সংসদে যোগ দেওয়া নিয়ে মতভিন্নতার কারণে জোট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তবে এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আরো সময় দিয়েছেন তিনি। সোমবার রাজধানীর উত্তরায় জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রবের বাসায় জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের এমন কথা জানান তিনি।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা ৮ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম, কোনো উত্তর পাইনি। আজকে দীর্ঘসময় আলোচনা হয়েছে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এটার সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নাই। যেহেতু আমাদের প্রবীণ নেতা (ড. কামাল হোসেন) অসুস্থ, সেহেতু বৈঠকটি মূলতবি রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি আমার দলের সভায় আলোচনা করে আরো অপেক্ষা করবো। যদি সুরাহা হয় আমরা আামাদের জান-প্রাণ দিয়ে লড়াই করবো। আমরাও চাই জাতীয় বৃহত্তর ঐক্য। এখন পর্যন্ত সেই জাতীয় ঐক্যের ভিত শক্তিশালী হয় নাই। এখন অবধি জাতির প্রত্যাশা আমাদের ঐক্যফ্রন্ট করতে পারেনি।

আপনি তো বলেছিলেন ৮ তারিখ সমাধান না হলে থাকবেন না- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলেছি। এ ব্যাপারে সমাধান করার জন্যই আলোচনা। আমি গত ৪ তারিখ ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। তারপরে আজকে সব দলের সঙ্গে নেতাদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকায় এই বিষয়টা সম্পূর্ণ হতে পারে নাই। সেজন্য কিছু সময় আমাকে ধৈর্য্য ধরতেই হবে, আমাদেরকে ধৈর্য্য ধরতে হবে।

আপনি আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন- এই প্রশ্নের জবাব নাকচ করে দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি কোনো দিন আল্টিমেটাম দেইনি। আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম। অনেকে অনেকের মতো করে ইয়ে করেন। আল্টিমেটাম অন্য জিনিস।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে প্রত্যাখান ও পুনঃনির্বাচনের প্রত্যাশা আমাদের মনে হয়েছে-এটা জাতীয় আকাঙ্খা, এটা জাতির কথা। পরবর্তিতে সংসদে ছিঁটে ফোটা ৬/৭ সদস্য ভাত খেতে গেলে যেমন ভাত পড়ে, এরকম ছিঁটে ফোটা কয়েকজন শপথ নেয়ায় জাতি মর্মাহত হয়েছে। সেই প্রশ্নগুলোই আমরা ঐক্যফ্রন্টের প্রবীণ নেতাদের কাছে করেছি। আমরা বিশ্বাস করি মানুষের নিরাপত্তা নেই, প্রতিদিন মানুষ মরছে, এই যে অব্যবস্থাপনা- এর থেকে বাঁচতে হলে বৃহত্তর ঐক্য দরকার।